কাতারকে বিদায় করে নকআউটের পথে বসনিয়া
কিশোর মিডফিল্ডার আলাজবেগোভিচের অসাধারণ একক নৈপুণ্যের গোলে ম্যাচের ভিত গড়ে দেয় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। পরে আত্মঘাতী গোল ও মাহমিচের আরেক গোলে কাতারকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করেছে ইউরোপের দলটি। এই হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে কাতারের।
সিটল স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটির প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বসনিয়া। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য দেখায় দলটি। দ্বিতীয় মিনিটেই ডেমিরোভিচের দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে দেন কাতারের গোলরক্ষক মেশাল বারশাম আবুনাদা। দুই মিনিট পর সুঞ্জিচের প্রচেষ্টাও রুখে দেন তিনি।
অন্যদিকে কাতার শুরুতে কিছু পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও বসনিয়ার রক্ষণভাগ ছিল সতর্ক। ১৪তম মিনিটে এডমিলসন জুনিয়রের পাসে আক্রম আকিফ এগিয়ে গেলেও দ্রুত ফিরে এসে বিপদ সামাল দেন সুঞ্জিচ। ২২তম মিনিটে বক্সের বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বসনিয়া। তবে ২৮তম মিনিটে আরেকটি সেটপিস থেকে কাতিচের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এক মিনিট পরই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় বসনিয়া। প্রায় ৩০ গজ দূরে বল পেয়ে আলাজবেগোভিচ প্রথমে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যান। এরপর দুর্দান্ত এক শটে বল জড়িয়ে দেন জালের ওপরের কোণায়। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলের দাবিদার এই প্রচেষ্টায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বসনিয়া।
গোলের পর আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় তারা। ৩৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রস পেছনের পোস্টে থাকা এদিন জেকোর কাছে পৌঁছায়। তিনি ভলি করে বল ফের গোলমুখে পাঠালে ক্লিয়ার করতে গিয়ে কাতারের ডিফেন্ডার আলব্রাকে নিজের জালেই বল পাঠিয়ে দেন। আত্মঘাতী গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-০। ৩৮তম মিনিটে জেকো তৃতীয় গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। গোলরক্ষককে কাটিয়ে নেয়ার পর তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
তবে বিরতির আগে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় কাতার। ৪২তম মিনিটে টানা দুটি ক্রস থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে কাছ থেকে বল জালে জড়ান অধিনায়ক হাসান আল-হাইদোস। ফলে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ২-১। যোগ করা সময়ে পেদ্রো মিগেলের শক্তিশালী শট পোস্টে লাগলে সমতায় ফেরার সুযোগ হাতছাড়া হয় তাদের।
দ্বিতীয়ার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে বসনিয়া। ৫১তম মিনিটে ডেমিরোভিচের হেড থেকে সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেননি জেকো। অন্যদিকে ৫৭তম মিনিটে আক্রম আকিফের শট জালের বাইরের পাশে আঘাত করলে সমতার সম্ভাবনা নষ্ট হয় কাতারের। ৬১তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় আল-গানেহির নিচু ক্রস থেকে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে বল ক্লিয়ার করে বসনিয়ার ডিফেন্ডাররা। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ইউরোপের দলটি।
৮০তম মিনিটে জয় নিশ্চিত করে বসনিয়া। বাজরাকতারেভিচের শক্তিশালী শট গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও বক্সে তৈরি হওয়া জটলায় সবার আগে বলের নাগাল পান মাহমিচ। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ৩-১ ব্যবধানে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
শেষদিকে কাতার কিছুটা বলের দখল পেলেও কার্যকর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। যোগ করা সময়ে পেদ্রো মিগেলের দূরপাল্লার শটও দারুণভাবে প্রতিহত করেন বসনিয়ার গোলরক্ষক।
শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। আলাজবেগোভিচের অসাধারণ গোল, আত্মঘাতী গোলের সুবিধা এবং মাহমিচের নিশ্চিত করা জয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে তারা। কানাডার সমান ৪ পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে বসনিয়া। দুদলের দেখা হওয়া ম্যাচটি ১-১ গোল সমতায় শেষ হয়েছিল। অন্যদিকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে সুইসরা। তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে কানাডা।