গোল্ডেন বুটের ভাগ্য গড়তে পারে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড মহারণ
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা নামতে বাকি মাত্র দুটি ম্যাচ। রোববার আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার মহারণে নির্ধারিত হবে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তবে তার আগেই শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে পড়লেও এই ম্যাচকে ঘিরে রয়েছে আলাদা উত্তেজনা—গোল্ডেন বুটের দৌড়।
ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুখেল অবশ্য তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গুরুত্ব নিয়ে খুব একটা আগ্রহী নন। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর তিনি বলেন,
"আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই এই ম্যাচ খেলতে চায় না। ফ্রান্সের খেলোয়াড়রাও চায় না। সবার লক্ষ্য ছিল ফাইনালে খেলা।"
তবে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে ম্যাচটি হতে পারে টুর্নামেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। কারণ, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও গোল্ডেন বুটের হিসাবে যুক্ত হয়। ফলে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের একাধিক ফুটবলারের সামনে রয়েছে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার শেষ সুযোগ।
বর্তমানে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। তবে চারটি অ্যাসিস্ট থাকায় টাইব্রেকারে কিছুটা এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অন্যদিকে ৭ গোল করা আর্লিং হালান্ড বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় তার গোলসংখ্যা আর বাড়ানোর সুযোগ নেই।
এদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম ছয়টি করে গোল নিয়ে এখনও দৌড়ে আছেন। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবাল পাঁচটি করে গোল করেছেন। ফলে শনিবারের ফ্রান্স-ইংল্যান্ড ম্যাচ এবং রোববারের ফাইনাল—দুই ম্যাচই গোল্ডেন বুটের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আছেন যারা
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা - ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট)
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স - ৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট)
আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে - ৭ গোল)
জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড - ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট)
হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড - ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট)
উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স - ৫ গোল, ২ অ্যাসিস্ট)
মিকেল ওইয়ারসাবাল (স্পেন - ৫ গোল, ১ অ্যাসিস্ট)
বিশ্বকাপের ইতিহাসও বলছে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বহুবার গোল্ডেন বুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৯৮ সালে ডেভর সুকার, ২০১০ সালে থমাস মুলার, ১৯৯০ সালে সালভাতোরে শিলাচি এবং ১৯৩৮ সালে লিওনিদাস—তারা সবাই এই ম্যাচে গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জয়ের পথে বড় সুবিধা পেয়েছিলেন।
একদিকে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াই, অন্যদিকে ব্যক্তিগত গৌরবের মঞ্চ—সব মিলিয়ে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, গোল্ডেন বুট শেষ পর্যন্ত কার হাতে ওঠে—মেসি, এমবাপ্পে নাকি শেষ মুহূর্তে চমক দেখান কেইন বা বেলিংহাম।