জাতীয়

নতুন উদ্যোক্তাদের পাশে সরকার থাকবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Copied
নতুন উদ্যোক্তাদের পাশে সরকার থাকবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে কথা বলেন। ছবি: পিএমও

উদ্যোক্তা ও সম্ভাবনাময় নতুন উদ্যোক্তাদের পাশে সরকার সবসময় থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সহজ নয়, তবে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে সফল হওয়া সম্ভব।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এখন কাজ করার সময়। যারা নতুন উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চান, তাদের জন্য পথটি অনেক কঠিন। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি থাকলে সবই সম্ভব। আপনাদের অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে সরকার আপনাদের পাশে আছে এবং সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে।"

তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, অনেকেই ইতোমধ্যে নিজেদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দেশের লাখো মানুষের পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যতের জন্যও তাদের প্রয়োজন রয়েছে।

ব্যবসা থেকে রাজনীতিতে আসার অভিজ্ঞতা

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, একসময় তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ব্যবসা শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, "ব্যবসা ও রাজনীতি একসঙ্গে চালানো সম্ভব হয়নি। তাই রাজনীতিকেই বেছে নিয়েছি। এই পথ চলায় আমাকে অমানুষিক নির্যাতন ও দীর্ঘ ধৈর্যের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আল্লাহর রহমতে আজ আমি এই জায়গায় এসে পৌঁছেছি।"

তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, সফলতার পথেও নানা বাধা ও কষ্ট আসবে। তবে ধৈর্য ধরে এগিয়ে গেলে সফলতা অর্জন সম্ভব।

তরুণদের দেখে বেড়েছে আত্মবিশ্বাস

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত একটি ইনোভেশন প্রদর্শনী এবং সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি নতুন প্রজন্মের মেধা ও সম্ভাবনা দেখে আশাবাদী হয়েছেন।

তার ভাষায়, "রাজনীতির কারণে মাঝে মাঝে হতাশ হয়ে যাই। কিন্তু ওই দুই অনুষ্ঠানে শিশুদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও অংশগ্রহণ দেখে আমার হতাশা কেটে গেছে। আজ আপনাদের বক্তব্য ও কাজ দেখে আমার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা দেশ পরিচালনায় কিছু পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। এখন মনে হচ্ছে, দেশের দায়িত্ব আগামী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব। আমরা যেখানে থামবো, সেখান থেকেই আপনারা দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।"

উদ্বোধন হলো জাতীয় স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্ম

অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য 'জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম' উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য, রিসোর্স, নেটওয়ার্কিং এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন এবং নির্বাচিত ছয়টি স্টার্টআপের প্রতিনিধির হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।

একই অনুষ্ঠানে দেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি নিয়ে কাজ করা রাফিহা ফ্যাশন হাউজের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা অনুদানের আবেদন করলে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর হাতেও অনুদানের চেক তুলে দেন।

পরে তিনি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা, বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে, যা উদ্ভাবনী উদ্যোগের অর্থায়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।