কক্সবাজার

নলকূপ খনন করতে গিয়ে গ্যাসের সন্ধান, ২০ ফুট উঁচুতে আগুন

নলকূপ খনন করতে গিয়ে গ্যাসের সন্ধান, ২০ ফুট উঁচুতে আগুন

নলকূপ খননকালে গ্যাসের সন্ধান, ২০ ফুট উঁচুতে উঠল আগুনের শিখা। ছবি সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ায় গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে উচ্চচাপে গ্যাস, কাদা ও ধোঁয়া বের হওয়ার পর আগুন জ্বলে উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় এ ঘটনা ঘটে। আগুনের শিখা প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচুতে উঠে যায়।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ফায়ার টিম কাজ করছে। এদিকে আগুন বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদকর্মী বেরাহান উদ্দিন জানান, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাত সাড়ে ৮টার দিকেও ভূগর্ভ থেকে উচ্চচাপে গ্যাস, কাদা ও ধোঁয়া বের হচ্ছিল এবং আগুন জ্বলছিল।

বাড়ির মালিক মোস্তফা সিকদার জানান, বাড়িতে খাবার পানির সংকট দূর করতে মঙ্গলবার সকালে পাঁচ থেকে ছয়জন শ্রমিক গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু করেন। খননকাজ প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট গভীরে পৌঁছালে হঠাৎ মাটির নিচ থেকে বিকট শব্দে তীব্র গন্ধযুক্ত গ্যাস, কাদা ও ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে। একপর্যায়ে আগুনের শিখা ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচুতে উঠে যায়। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠলে তাঁরা দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়েও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরে দুপুর আড়াইটার পর সেনাবাহিনীর একটি ফায়ার টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দেয়।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যৌথভাবে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসের চাপ সামাল দেওয়া এবং আগুন যাতে আশপাশে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে কাজ করছেন তাঁরা।

উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে ওই এলাকায় আগে থেকেই গ্যাস থাকার কথা শোনা গেলেও সেখানে প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ভূগর্ভের কোন স্তর থেকে কী ধরনের গ্যাস বের হচ্ছে, এর উৎস কী এবং কেন এমন ঘটনা ঘটেছে, তা জানা যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান হিসেবে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে না। এ অবস্থায় আগুন নিয়ন্ত্রণ, আশপাশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা জরুরি।