কক্সবাজার

মহাপরিচালক গণযোগাযোগ অধিদপ্তর

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি সহায়তায় প্রান্তিক মানুষের জীবনমান বাড়ছে

Copied
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি সহায়তায় প্রান্তিক মানুষের জীবনমান বাড়ছে

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষি সহায়তার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কথা জানিয়েছেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল। ছবি সংগৃহীত

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফ অন্যতম। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল জলিল।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ) সকাল ১১টায় কক্সবাজার পৌরসভার সাহিত্যিকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত ফ্যামিলি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভিডিওকলের মাধ্যমে সমাবেশে যুক্ত হন মহাপরিচালক।

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বর্ণিত প্রধান প্রতিশ্রুতি, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচি এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

কক্সবাজার জেলা তথ্য অফিসার মো. আব্দুছ ছাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সহকারী তথ্য অফিসার মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গুলশান আক্তার এবং সাহিত্যিকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা আক্তার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবদুল জলিল বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে বর্ণিত প্রধান প্রতিশ্রুতি ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচির আলোকে সরকার জনকল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য গাড়ি, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, দেশের সব ধর্মের উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনকারী ধর্মীয় নেতা—ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইত, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং পালক/যাজকদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। জনকল্যাণমুখী এসব কর্মসূচির আওতায় জনগণ কী ধরনের সেবা ও সুবিধা পাবেন, সে বিষয়গুলো তিনি উপস্থিত নারীদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে মায়েদের দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে মহাপরিচালক বলেন, নিজেদের জীবনে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে। একই সঙ্গে সন্তানদেরও নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ বলেন, ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই দর্শনের ভিত্তিতে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য সমাজের প্রান্তিক, হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের অর্থনৈতিক ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি এ কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এ অর্থবছরে ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সমাবেশে বক্তারা দুর্নীতি, মাদক, গুজব, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, ডেঙ্গু ও মানব পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি নৈতিকতা ও মূল্যবোধ চর্চা এবং স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আলোচ্য বিষয়গুলোর ওপর নির্মিত বিভিন্ন ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সমাবেশে প্রায় দুই শতাধিক নারী অংশগ্রহণ করেন।