মেরিন ড্রাইভে অবৈধ মোটরসাইকেল চলাচল, মাসোহারার অভিযোগ
পর্যটন এলাকা মেরিন ড্রাইভ সড়কে বৈধ কাগজপত্রবিহীন মোটরসাইকেলের চলাচল এবং রেন্ট-এ-বাইক ব্যবসা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কয়েকজনের অভিযোগ, কিছু রেন্ট-এ-বাইক ব্যবসায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই মোটরসাইকেল ভাড়া দিচ্ছেন।
একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশে এসব কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারাও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলী মোড়, বেলী হ্যাচারি পয়েন্ট এবং কলাতলী থেকে জমজম হ্যাচারি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে রেন্ট-এ-বাইকের একাধিক স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্ট্যান্ডের অনেকগুলো রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, এসব স্ট্যান্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের একটি অংশের বৈধ নিবন্ধন, ফিটনেস বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। তবে এই দাবির সত্যতা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
পাবনা থেকে আসা কলেজ শিক্ষার্থী রিয়াজ মাহমুদ জানান, তিনি তিন ঘণ্টার জন্য একটি মোটরসাইকেল ভাড়া নেন। তার দাবি, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চাইলে ব্যবসায়ী তাকে বলেন, পথে কোনো সমস্যা হবে না। রিয়াজের ভাষ্য, তিনি অনেক চালককে হেলমেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল চালাতে দেখেছেন।
ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ব্যবসায়ী রবিন হাওলাদার বলেন, টেকনাফ যাওয়ার পথে হিমছড়ি এলাকায় পুলিশ তাকে থামালেও মোটরসাইকেলের মালিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মাসিক সমঝোতার কথা শুনেছেন বলে দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেন্ট-এ-বাইক ব্যবসায়ী দাবি করেন, অবৈধ কাগজপত্রের মোটরসাইকেল পরিচালনাকারীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করা হয় এবং তা বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়।
হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) সোমনাথ বসু বলেন, “মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব মূলত ট্রাফিক বিভাগের। মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ সঠিক নয়। আমার বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগের প্রমাণ নেই।”
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “রেন্ট-এ-বাইক ব্যবসা থেকে মাসিক অর্থ আদায়ের বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি কোনো পুলিশ সদস্য এমন কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”
কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) খসরু পারভেজ বলেন, “অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার বলেন, “মেরিন ড্রাইভে অবৈধ মোটরসাইকেল চলাচলের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেন্ট-এ-বাইক ব্যবসা নিয়মের আওতায় আনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রবিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।