অপরাধ

রাবেতা খালে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান, এসিল্যান্ড ফেরার পর অভিযোগকারীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলা

রাবেতা খালে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান, এসিল্যান্ড ফেরার পর অভিযোগকারীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলা

রাবেতা খাল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন! অভিযানের পর অভিযোগকারীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ—নেপথ্যে অভিযুক্ত হামিদুল হক ওরফে ‘হালাবা’!

কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাবেতা খালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমানের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বরূপ মুহুরীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর অভিযোগকারী মৌলভী নুরুল হুদার বাড়িতে হামলা ও দুটি গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নুরুল হুদার অভিযোগ, একই এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল জলিলের পুত্র ধর্ষণসহ একাধিক মামলার আসামী হামিদুল হক ওরফে হালাবা ডাকাতের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এ হামলা চালানো হয়।

আকস্মিক হামলার ঘটনায় মৌলভী নুরুল হুদা পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯-এ কল দেন। এতে রামু থানার ওসি হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সোলাইমানকে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু উক্ত তাকে থানায় লিখিত অভিযোগ করতে বলে ঘটনাস্থলে যাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। নুরুল হুদা এ ঘটনায় রামু থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রামুর ধেছুয়া পালং এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল গণির বাড়ির প্রায় ২৫০ ফুট উত্তরে রাবেতা খালে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে আদালত ও ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও শুরুতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গত ১৯ অক্টোবর ইউএনওর নির্দেশে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের দারিয়ারদীঘি বিটের ভারপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা নোমান ঘটনাস্থলে যান। তবে ড্রেজার মেশিন ও বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ না করেই তিনি ফিরে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ২০ অক্টোবর হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমান ঘটনাস্থলে যান।

অভিযোগকারীদের দাবি, সেদিনও সেখানে বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম ছিল। পরদিন ২১ অক্টোবর সকাল নয়টার দিকে তিনি আবার ঘটনাস্থলে যান এবং প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর ফিরে আসেন। এরপর হামিদুল হকের বড় ভাই রমিজের সঙ্গে তাঁকে ধেছুয়া পালং স্টেশনে চা পান ও আলাপ করতে দেখা গেছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। অভিযোগকারী নুরুল হুদার দাবি, এসআই সোলাইমান তাঁর কাছ থেকে খরচের টাকা নিয়েছিলেন। তবে ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে এসআই সোলাইমান বলেন, ঘটনাস্থলে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় সফল অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউএনও মো. জিল্লুর রহমান বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা রাবেতা খালে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগকারীর বাড়িতে হামলা ও গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আগের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বন বিভাগ ও পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।