মহেশখালীর পাহাড়ে উদ্ধার অপহৃত শিশু, স্বস্তি ফিরল পরিবারে
কক্সবাজার সদর থানা ও মহেশখালী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে অপহরণের দুই দিন পর ৪ বছরের এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম আলভী হোসেন। সে কক্সবাজার শহরের জেলগেইট এলাকার সাদ্দাম হোসেনের ছেলে।
রবিবার, (৭ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে মহেশখালীর বড় মহেশখালী ইউনিয়নের দেবাঙ্গ পাড়ার একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রূপবানু (স্বামী- করিম, সাং- চকরিয়া) নামের এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রূপবানু তার কারাবন্দী স্বামীকে দেখতে কক্সবাজার জেলা কারাগারে যান। সেই সুবাদে তিনি কারাগারের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন। পরদিন সুযোগ বুঝে সাদ্দাম হোসেনের ৪ বছরের শিশু আলভী হোসেনকে অপহরণ করে মহেশখালীতে পালিয়ে আসেন। শিশুটির চাচার দাবি, অপহরণের পর শিশুটিকে জিম্মি করে ৩ দফায় মোট ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ হাতিয়ে নিয়েছে অপহরণকারী চক্র।
শিশু নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। মহেশখালী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম বড় মহেশখালীর দেবাঙ্গ পাড়ার পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। নিখুঁত ট্র্যাকিং ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে অপহরণের দুই দিনের মাথায় পাহাড়ি আস্তানা থেকে শিশু আলভীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত রূপবানুকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এদিকে, শিশু উদ্ধারের স্বস্তি ফিরলেও পুরো ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষের (ভুক্তভোগী পরিবার ও অপহরণকারী) বক্তব্য এবং আচরণে বেশ কিছু সন্দেহজনক অমিল পাওয়া গেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি শুধু অপহরণের ঘটনা নয়। এর পেছনে মাদক চোরাচালান বা মাদক সংক্রান্ত কোনো অভ্যন্তরীণ বিরোধ কিংবা আর্থিক লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।
মহেশখালী থানা পুলিশ জানায়, শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে ঘটনার পেছনে কোনো মাদক সিন্ডিকেট বা অন্য কোনো অপরাধের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রূপবানুকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে মূল রহস্য উদঘাটিত হবে।